আজ রবিবার | ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ৩১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৫ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী| সময় : সন্ধ্যা ৬:৩২
Home > প্রিয় শরীয়তপুর > নড়িয়া > নড়িয়ায় সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মদিন পালিত

নড়িয়ায় সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মদিন পালিত

জাহাঙ্গীর ছৈয়াল প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০১৯ সময়: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

 

 

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নাট্যাচার্য ড. সেলিম আল দীনের ৭০তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়েছে। রোববার ১৮ আগষ্ট সন্ধায় নড়িয়া মাল্টিলিংক স্যাটেলাইট সিস্টেম অফিসে আলোচনা সভার আয়োজন করে কীর্তিনাশা থিয়েটার ও চাকধ থিয়েটার। এর আগে সেলিম আল দীনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করা হয়।

বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার হাজী শরীয়তুল্লাহ অঞ্চলের সমন্বয়কারী ও কীর্তিনাশা থিয়েটারের পরিচালক আহমেদ জুলহাসের সভাপতিত্বে ও চাকধ থিয়েটারের পরিচালক রকি আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন ড. সেলিম আল দীনকে বলা হয় বাংলা নাটকের গৌড়জন। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু রেখে গেছেন তার অবিনশ্বর মহাকাব্যিক সব সৃষ্টি সম্ভার। তাঁর নাটকই বাংলা থিয়েটারের বহুযুগের প্রতীক্ষার অবসান ঘটায়। বাংলার মাটিতে, বাংলার জলহাওয়ায় বাংলার প্রাণের ভাষাতেই জন্ম নেয়া তার নাটকগুলো। বাংলা নাটকের সব উপাদানকে ছুঁয়ে যায় আধুনিকের মন নিয়ে। এ কারণেই বাঙালির কাছে সেলিম আল দীন এক অবিস্মৃত নাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নড়িয়া পৌর কাউন্সিল আঃ লতিফ বেপারী, আবু জাফর শেখ, গোলাম মাওলা থিয়েটারের বরকত আলী মুরাদ, ঢালীপাড়া থিয়েটারের জাহাঙ্গীর ছৈয়াল, চাকধ থিয়েটারের লোকমান হোসেন মন্টু, নাট্যকর্মী সেকান্দার আলম রিন্টু, মাহমুদুর রহমান হারিছ, শাহীন খান, আব্দুস সামাদ আজাদ, মিজানুর রহমান শান্ত, দীপ্তি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত ফেনী জেলার সোনাগাজীর সেনেরখিল গ্রামে ১৯৪৯ সালের ১৮ই আগস্ট সেলিম আল দীন জন্মগ্রহণ করেন। ঔপনিবেশিক সাহিত্য ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলা নাটককে আবহমান বাংলার গতিধারায় ফিরিয়ে এনেছিলেন নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন। বাংলা নাটকে বিষয়, আঙ্গিক আর ভাষা নিয়ে গবেষণা ও নাটকে তার প্রতিফলন তুলে ধরেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা নাটকের যে আন্দোলন, এর পেছনেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

ফিরোজা খাতুন ও মফিজউদ্দিন আহমেদ দম্পতির তৃতীয় সন্তান তিনি। ফেনীতে জন্ম হলেও বাবার চাকরির সূত্রে ফেনী, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রংপুরের বিভিন্ন স্থানে তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক নিয়ে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন সেলিম আল দীন। ওই বিভাগ থেকেই তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো নাটক বিষয়ক পত্রিকা ‘থিয়েটার স্টাডিজ’। নাট্য চর্চার জন্য ঢাকা থিয়েটার প্রতিষ্ঠাতেও ভূমিকা ছিল তার। পরে সারাদেশে নাট্য আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১-৮২ সালে আরেক নাট্যযোদ্ধা নাসিরউদ্দীন ইউসুফের সঙ্গে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। নাটক রচনার পাশাপাশি নাটক নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে গেছেন আজীবন। বাংলা ভাষার একমাত্র নাট্যবিষয়ক কোষগ্রন্থ ‘বাংলা নাট্যকোষ’ সংগ্রহ, সংকলন, প্রণয়ন ও সম্পাদনা করেছেন তিনি নিজেই।

তার রচিত ‘হরগজ’ নাটকটি সুয়েডীয় ভাষায় অনূদিত হয় এবং এ নাটকটি ভারতের রঙ্গকর্মী নাট্যদল হিন্দি ভাষায় মঞ্চায়ন করেছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ কেন্দ্রিক এথনিক থিয়েটারেরও উদ্ভাবনকারী তিনিই। সেলিম আল দীনের লেখা নাটকের মধ্যে ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’, ‘মুনতাসির ফ্যান্টাসি’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘চাকা’, ‘হরগজ’, ‘প্রাচ্য’, ‘হাতহদাই’, ‘নিমজ্জন’, ‘ধাবমান’, ‘পুত্র’, ‘বনপাংশুল’ উল্লেখযোগ্য। ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে তার গবেষণাধর্মী নির্দেশনা ‘মহুয়া’ ও ‘দেওয়ানা মদিনা’। তার রচিত ‘চাকা’ ও ‘কীত্তনখোলা’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

একুশে পদক, বাংলা একাডেমি ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. সেলিম আল দীন ২০০৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রিয় মসজিদের কাছে তাকে সমাহিত করা হয়।

Comments

comments

x

Check Also

শরীয়তপু‌রের ভেদরগ‌ঞ্জে বাবু সিকদার না‌মে কথিত সাংবা‌দিক ইয়াবা সহ অাটক

  ‌সোমবার (২৬ অাগষ্ট) বিকা‌লে ভে‌দেরগন্ঞ্জ উপ‌জেলার রামভদ্রপুর ইউ‌নিয়‌নের বাশতলা এলাকা থে‌কে আনোয়ার হো‌সেন বাবু ...

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow