আজ বৃহস্পতিবার | ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী| সময় : দুপুর ১২:৪৫
Home > প্রিয় শরীয়তপুর > নড়িয়া > নড়িয়ায় নদী ভাঙ্গন অব্যাহত।

নড়িয়ায় নদী ভাঙ্গন অব্যাহত।

জাহাঙ্গীর ছৈয়াল প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সময়: ৬:১৪ অপরাহ্ণ

অব্যাহত পদ্মার ভাঙ্গনে প্রতিদিনই গিলে খাচ্ছে নড়িয়া এলাকার সরকারী বে-সরকারী ভবন মূলফৎগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ বহু লোকের সাজানো গোছানো ঘরবাড়ী। সোমবার রাতে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটির অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনে জরুরী বিভাগ ও বহিঃ বিভাগ চালু রাখা হলেও হাসপাতালে প্রবেশের সড়কটি বিলিন হয়ে যাওয়ায় ভয়ে কোন রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছে না। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করতে আসেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মানদীর ডান তীর সংরক্ষন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পদ্মার পানি কমলেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুলহক শামিম, সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য নাভানা আক্তার, জেলা প্রশাসক কাজী আবুতাহের,পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো.শফিকুল ইসলাম শেখ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ১৯৬৮ সালে নড়িয়া উপজেলা সদরের চার কিলোমিটার দুরত্বে মুলফৎগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে ৩০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। ২০১৪ সালে ওই হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসাপাতাল ক্যাম্পাসে জরুরী বিভাগ, বহিঃ বিভাগ ও আবাসিক ভবনসহ ১২টি পাকা ভবন রয়েছে। গত রোববার সকাল থেকে উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটি গ্রাস করে সর্বনাশা পদ্মা। সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে নতুন ভবনটির ৭৫ ভাগ বিলিন হয়ে যায়। এই হাসপাতালটিতে গত কয়েক দিন আগেও প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ ও শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসতো। আগস্ট মাসের শেষের দিকে নড়িয়া সুরেশ্বর সড়কটি পদ্মায় বিলীন হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে রোগী কমতে থাকে। প্রায় এক সপ্তাহ যাবত হাসপাতালে প্রবেশ পথটিও পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এর পর হাসপাতালের পিছন দিক দিয়ে একটি সরু পথে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হলেও ভাঙ্গন আতঙ্কে কোন রোগি ভয়ে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেনা। স্থানীয়রা আরো জানায়, যেভাবে পদ্মা হাসপাতালের সীমান প্রাচীর, এর পর নতুন ভবন গ্রাস করে এখন ভিতরের দিকে ঢুকছে। এ ভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ধীরে ধীরে সবকটি ভবন পদ্মায় গিলে খাবে। হাসপাতালটি নদীগর্ভে চলে গেলে নড়িয়ার ৩ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
সরে জমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনটি দ্বিখন্ডিত হয়ে অধিকাংশ পদ্মা পড়ে গেছে। পার্শ্বের ভবনগুলো নদীর তীরে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা থাকলেও কোন রোগি দেখা যায়নি। হাসপাতালের সামনে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বালু ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙ্গন কবলিত ক্ষতিগ্রস্থরা বসত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বাজারের পাকা দোকান গুলো নিজেদের উদ্যোগে ভেঙ্গে ইট ও রড সড়িয়ে নিচ্ছে।

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়াম্যান ক্ষতিগ্রস্থ ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, আমরা খুবই অসহায়। আমাদের আর কিছুই অবশিস্ট নেই। হাসপাতালটি ভাঙ্গনের মুখে পড়ায় এ উপজেলার লোকজনের চিকিৎসা সেবা অনিশ্চি হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ দূরত্বে হামপাতালের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানাচ্ছি। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুনীর আহমেদ বলেন, সোমবার রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনটির অধিকাংশ পদ্মা চলে গেছে। আমরা ভবনটি নিলামে বিক্রির জন্য মাইকিং করলেও কোন লোক আসেনি ক্রয়ের জন্য। হাসপাতালের আরো ১১টি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমিত পরিসরে জরুরী ও বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে এখনো হাসপাতারের কার্যক্রম অন্যত্র সড়িয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।

Comments

comments

Leave a Reply

x

Check Also

শরীয়তপুরে পালং বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে, দুই কর্মচারীর মৃত্যু

শরীয়তপুর পৌর বাজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দোকানে আটকা পড়ে পলাশ বৈরাগী (২৫) ...

Powered by Dragonballsuper Youtube Download animeshow